ঢাকা, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সরকার দেশের জনগণকে বিপাকে ফেলেছে : জিএম কাদের

হঠাৎ করেই গ্যাসের দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার দেশের জনগণকে বিপাকে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের। শুক্রবার (৪ মার্চ) এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেছেন, ১২ কেজি এলপি গ্যাসের দাম এক লাফে এক হাজার ২৪০ টাকা থেকে বেড়ে এক হাজার ৩৯১ টাকাতে দাঁড়িয়েছে। এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। এমন বাস্তবতায় গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি কোনোভাবেই ঠিক হয়নি।


জিএম কাদের বলেন, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সময়ে প্রতি কেজি চালের দাম ছিল আট থেকে ১০ টাকা। গত ৩১ বছরে প্রতি কেজি চালের দাম বেড়ে বর্তমানে ৫০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পল্লীবন্ধুর সময়ে যে সয়াবিন তেল ২০ থেকে ২৫ টাকা লিটার বিক্রি হয়েছে, তা বর্তমানে ২১০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।


সংসদের বিরোধী দলীয় এই উপনেতা বলেন, সাত থেকে ১০ টাকা লিটার থেকে এখন ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার পেট্রোল। এমনকি ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে যে সয়াবিনের দাম প্রতি লিটার ছিল ১০৪ টাকা, বর্তমানে তার দাম ২১০ টাকা। এভাবে তিন বছরে প্রতি কেজি চিনি ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা, মোটা চাল ৪০ থেকে বেড়ে ৫০ টাকা, আটা ২৮ থেকে বেড়ে ৩৮ টাকা ও মসুর ডাল ৫৫ থেকে বেড়ে ১০৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে।


তিনি আরও বলেন, রান্নার জন্য পাইপ লাইনের গ্যাসের বর্তমান মূল্য ৯৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই হাজার ১০০ টাকা করতে প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যুতের দামও ৬৬ থেকে ৭৯ শতাংশ বাড়াতে প্রস্তাব করা হয়েছে। একইভাবে পানির দাম ২০ ভাগ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।


জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মনে করেন, এগুলো কার্যকর হলে এর প্রভাবে সকল ধরনের দ্রব্য ও সেবার মূল্য আরেক দফায় বৃদ্ধি পাবে। এমন প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন হলে দেশের ৯০ ভাগ ঘরে হাহাকার উঠবে। পানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে গণবিরোধী একটি সিদ্ধান্ত।


স্বল্পমূল্যে নিত্যপণ্য ক্রয়ে টিসিবির গাড়ির সামনে লম্বা লাইন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই মধ্যে ভিক্ষুকের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।

ads
ads
ads

Our Facebook Page