পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় ডানপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠী তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান (টিএলপি)-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। ইসরায়েলবিরোধী সহিংস বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হওয়ার কয়েক দিন পর বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দেশটির মন্ত্রিসভা এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানায়, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে মন্ত্রিসভা আনুষ্ঠানিকভাবে টিএলপিকে নিষিদ্ধ করে। ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভে দলের সদস্যদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনাই এই সিদ্ধান্তের পেছনের মূল কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
পাকিস্তান সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাঞ্জাব প্রাদেশিক সরকারের সুপারিশের ভিত্তিতে ফেডারেল মন্ত্রিসভা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় টিএলপিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছে। বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দলটির সহিংস কর্মকাণ্ড ও জননিরাপত্তা হুমকি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি বারবার সহিংসতা উসকে দিয়েছে এবং দেশজুড়ে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা ছাড়া সরকারের আর কোনো বিকল্প ছিল না।
২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সুন্নি ইসলামপন্থী এই দলটি প্রথমে ‘ধর্ম অবমাননা বিরোধী আন্দোলন’কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে এবং ২০১৬ সালে রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ২০২১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকারও সহিংস বিক্ষোভের কারণে টিএলপিকে নিষিদ্ধ করেছিল। তবে ছয় মাস পর, দলটি ভবিষ্যতে সহিংসতা পরিহার করবে এমন প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।
সূত্র: ডন, রয়টার্স