বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।ভারতে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে এসে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দেওয়ার পর তৈরি হওয়া রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই এই সিদ্ধান্তের কথা সামনে এলো।গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে প্রায় ১,৪০০ মানুষকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অপরাধে শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। নির্বাসনে থাকা অবস্থাতেই তিনি বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন।
তবে সম্প্রতি শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণার খবর প্রকাশ্যে আসার পর, নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ওপর ক্ষমতাচ্যুত সরকারের শেষ সহযোগীদের উচ্চপদ থেকে অপসারণের তীব্র জনদাবি তৈরি হয়।সূত্র মতে, ৭৬ বছর বয়সী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তার সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। আজ শুক্রবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে নতুন স্থায়ী প্রার্থী নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হলেও এই দেশে পদটি প্রধানত আনুষ্ঠানিক। মূল নির্বাহী ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার হাতে। ২০২৩ সালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিনাপ্রতিদ্বন্দিতায় ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হন মো. সাহাবুদ্দিন।
এর আগে গত ডিসেম্বরে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতায় আসার পরই তিনি পদত্যাগের পরিকল্পনা করছেন।