কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তেহরানের অভিযোগ অনুযায়ী, এই হামলায় তাদের এক নাবিক নিহত এবং আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই কিয়েভের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করে আনুষ্ঠানিক ও কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।সংঘাতের নতুন কেন্দ্রে এখন কাস্পিয়ান সাগর।তেহরান থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের সংশ্লিষ্ট বিধি লঙ্ঘন করে এই হামলা চালানো হয়েছে। এই ধরনের পদক্ষেপ রাশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক সংকটে রূপ দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরান।
একই সাথে নিজেদের জাতীয় স্বার্থ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা স্পষ্ট করেছে দেশটি।অন্যদিকে ইউক্রেনের সংশ্লিষ্ট সূত্রে দূরপাল্লার এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। কিয়েভ কর্তৃপক্ষের দাবি, কাস্পিয়ান সাগরে সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী একটি জাহাজ এবং রুশ নৌবাহিনীর একটি যানকে লক্ষ্য করে অভিযানটি চালানো হয়। ইউক্রেনীয় প্রশাসনের অভিযোগ, মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য অঞ্চলের সামরিক তথ্যাদি পেতে রাশিয়া নিয়মিত ইরানকে মহাকাশভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে। কাস্পিয়ান সাগরকে দীর্ঘদিন ধরে ইরানের জন্য নিরাপদ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে এই সাম্প্রতিক হামলার পর জলপথটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতি এবং বাণিজ্যিক পথে বাধার কারণে ইরান ইতোমধ্যে নানামুখী চাপে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কাস্পিয়ান অঞ্চলে ঝুঁকি তৈরি হলে দেশটির জ্বালানি পরিবহন ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। তবে কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া জানালেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের কথা জানায়নি ইরান। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা