দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া আটটি ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে বাংলাদেশে নির্ধারিত মানের চেয়ে বহু গুণ বেশি মাত্রায় পারদ (মার্কারি) পাওয়া গেছে। এসব প্রসাধনী বিক্রি, মজুদ, বিতরণ ও ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য ভোক্তাদের সতর্ক করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, বাজার থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্কিন হোয়াইটেনিং ক্রিম পরীক্ষার পর এ উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া গেছে।
বিএসটিআই জানায়, বাজার থেকে সংগ্রহ করা নমুনার ল্যাব পরীক্ষায় পাকিস্তানের এস.জে এন্টারপ্রাইজের চাঁদনি হোয়াইটেনিং ক্রিমে ১২০.৩৯ পিপিএম, কিউসিআই কোম্পানির নিউ ফেস বিউটি ক্রিমে ৪৪.৭২ পিপিএম, লোয়া ইন্টারন্যাশনালের নাভিয়া বিউটি ক্রিমে ৫৯.৮২ পিপিএম এবং নাভিয়া হোয়াইটেনিং ক্রিমে ৭৯.৭০ পিপিএম মার্কারি পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া পাকিস্তানের নুর এন্টারপ্রাইজের নুর হোয়াইটেনিং ক্রিমে ৮২.৭৬ পিপিএম, ক্রিয়েটিভ কসমেটিকসের ডিউ বিউটি ক্রিমে ১২৩.৩৭ পিপিএম, গৌরি কসমেটিকস প্রাইভেট লিমিটেডের গৌরি বিউটি ক্রিমে ৫৬.৯৩ পিপিএম এবং চীনের জিএলডিজেবি (হারবিন) কসমেটিকস কোম্পানির ন্যাচারাল পার্ল স্কিন ক্রিমে ৬৭.৪৯ পিপিএম মার্কারি শনাক্ত হয়েছে।
বিএসটিআই আরও জানায়, সম্প্রতি দেশীয় বাজারে বিভিন্ন ধরনের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম পাওয়া যাচ্ছে, যার অনেকগুলো বৈধভাবে আমদানি করা হয় না। লাগেজ বা বিভিন্ন চোরাই পথে এসব পণ্য দেশে প্রবেশ করে বাজারজাত করা হচ্ছে। ফলে এসব পণ্যের মান যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।
সংস্থাটির মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। ভোক্তার জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাই বিএসটিআইয়ের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত প্রসাধনী উৎপাদন, আমদানি বা বাজারজাত করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বাজারকে নিরাপদ রাখতে বিএসটিআই নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষাগারে পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ, বাজার তদারকি, মোবাইল কোর্ট এবং সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম জোরদার করেছে।
একই সঙ্গে অজ্ঞাত বা অনুমোদনবিহীন ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম ক্রয় ও ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিএসটিআই। প্রসাধনী কেনার আগে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ও পণ্যের বৈধতা যাচাই এবং সন্দেহজনক কোনো পণ্য সম্পর্কে তথ্য থাকলে সংস্থাটিকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিএসটিআই সতর্ক করে বলেছে, দীর্ঘদিন মার্কারিযুক্ত স্কিন ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা নষ্ট হওয়া, ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া, স্থায়ী দাগ, অ্যালার্জি, কিডনির ক্ষতি ও স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতার মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে অনাগত শিশুর স্বাভাবিক বিকাশও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।