রাজধানীর বকশীবাজারে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার সামনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে মাদ্রাসার মাঠের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন।
এর আগে দুপুর থেকেই মাদ্রাসা এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। বিকেল ৩টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা মাদ্রাসার বাইরে এবং ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, হলের সিট দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত। ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, হলের সিট অবৈধভাবে দখলের প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের দাবি, ছাত্রশিবির বিভিন্ন জায়গায় একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করছে।
সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি লাঠি ও লোহার পাইপ হাতে কয়েকজনকে অবস্থান করতে দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতেও দুই পক্ষকে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় জড়াতে দেখা যায়।
সংঘর্ষে ছাত্রদলের অন্তত দুই নেতা আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তারা হলেন সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সানাউল্লাহ (৩০) এবং লালবাগ থানা ছাত্রদলের সদস্যসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিছার উদ্দিন রাব্বি (২৭)।
আহত রাব্বির ভাষ্য, তিনি ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নন। সেখানে তাঁর কয়েকজন বন্ধু থাকায় বিকেলে তাঁদের সঙ্গে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধরের পাশাপাশি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সানাউল্লাহর দুই পা, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। রাব্বির বাম পায়ে ইটের আঘাত লাগে। পড়ে গিয়ে তাঁর বাম হাতেও চোট লাগে। দুজনকেই জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের চকবাজার জোনের সহকারী কমিশনার মো. মাহফুজার রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে থাকা সত্ত্বেও দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
এর আগে সকাল থেকেই মাদ্রাসা এলাকায় দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। দুপুরের পর তা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় রূপ নেয়। বিকেলে আবারও সংঘর্ষ শুরু হলে মাদ্রাসা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়।
এ ঘটনার পরও মাদ্রাসা এলাকায় কিছু সময় থমথমে পরিবেশ ছিল। দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের অবস্থানকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্রদল, জকসু ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রবেশ ও বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে শহীদ মিনার এলাকাতেও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ঘটনার পর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার সামনে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।