ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬

সব হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহতের সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ হাই কোর্টের

দুর্ঘটনায় আহত যেকোনো ধরনের ব্যক্তিকে সব হাসপাতাল-ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে নির্দেশনা (সার্কুলার) জারি করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আট বছর আগে করা এক রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এ রায় দেন।‘ছিনতাইকারীর হাতে নারীসহ দুজন নিহত’ শিরোনামে ২০১৮ সালের ২৭ জানুয়ারি একটি দৈনিকে প্রতিবেদন ছাপা হয়।


রাজধানীতে পৃথক ছিনতাইয়ের মুখোমুখি হয়ে খুলনার ব্যবসায়ী মো. ইব্রাহিম ও বরিশালের হেলেনা বেগমের এই প্রাণহানির প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে দুই আইনজীবী ২০১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রিটটি করা হয়।


রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে ইব্রাহিমের জীবন রক্ষায় এবং হেলেনার ক্ষেত্রে ছিনতাইকারীর হাত থেকে জীবন রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।


একইসঙ্গে দুর্ঘটনায় আহত যেকোনো ধরনের ব্যক্তিকে সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে নির্দেশনা জারি করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে রুলে জানতে চাওয়া হয়।


এ ছাড়া ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও রুল হয়। চূড়ান্ত শুনানি শেষে রুল আংশিক অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে আজ রায় দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে রিট আবেদনকারীপক্ষ। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডল ও নাসরিন সুলতানা।


রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ জীসান হায়দার। সালাহউদ্দিন হাসপাতালের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কাজী এরশাদুল আলম।


রায়ের পর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ গণমাধ্যমকে বলেন, এর আগে হাইকোর্টের নির্দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ ও সহায়তাকারী সুরক্ষা প্রদান নীতিমালা-২০১৮ প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু বেসরকারি হাসাপাতলের ক্ষেত্রে নীতিমালার বাস্তবায়ন দেখা যায় না। এ জন্য দুর্ঘটনায় আহত যেকোনো ব্যক্তিকে কাছের সরকারি-বেসরকারিসহ সব হাসপাতাল-ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে নির্দেশনা (সার্কুলার) অবিলম্বে জারি করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিধিতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে কাছের হাসপাতাল তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দেবে বলে বলা হয়েছে। তবে ছিনতাইয়ের মতো দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ নেই।


রায়ে ২০১৮ সালের সড়ক দুর্ঘটনা আইন সংশোধন করে সব দুর্ঘটনার বিষয়ে কাছের হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসাব্যবস্থার জন্য সংশোধন করে বিধি প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে বলে জানান মনজিল মোরসেদ। তিনি আরও বলেন, ওই দুর্ঘটনায় ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণের বিষয়ে রায়ে বলা হয়েছে, যেহেতু সালাউদ্দিন হাসপাতাল তাদের জবাবে রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেছে এবং ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এটি সুনির্দিষ্ট আইনে সম্ভব। তাই ক্ষতিপূরণের আদেশ না দিয়ে সংশ্লিষ্ট আইনে ক্ষতিগ্রস্তের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ আছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ব্যবস্থা নিতে পারে বলে রায়ে অভিমত এসেছে।


রিট আবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৬ জানুয়ারি সায়েদাবাদ এলাকায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত খুলনার ব্যবসায়ী ইব্রাহিম কাছের টিকাটুলির সালাহউদ্দিন হাসপাতালে যান। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে পরামর্শ দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা পাওয়ার আগেই ইব্রাহিমের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, ছিনতাইকারীর গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হন বেসরকারি একটি হাসপাতালের নারী কর্মী হেলেনা বেগম। ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে ছিনতাইকারীরা তাঁর হাতের ব্যাগ ধরে টান দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি গাড়িতে পিষ্ট হন। ২০১৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ধানমন্ডি ৭ নম্বর সড়কে এই ঘটনা ঘটে।

ads
ads
ads

Our Facebook Page