রাজধানীর মিরপুর ১১ নম্বর এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে বিএনপির এক নেতাসহ দুইজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বিএনপি নেতা ও মাছের আড়ত ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন (৪৫)-কে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ–নবাবগঞ্জ রোড এলাকার ২৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের ‘বি’ ব্লকের একটি চায়ের দোকানে কয়েকজনের সঙ্গে বসে ছিলেন আলমগীর। এ সময় একটি প্রাইভেট কার থেকে নেমে কয়েকজন অস্ত্রধারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। হামলায় আলমগীর ছাড়াও ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় জোসনা (৬৫) নামে এক নারী গুলিবিদ্ধ হন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আলমগীরের মাথা ও পিঠে মোট তিনটি গুলি লেগেছে। অন্যদিকে আহত নারী জোসনার পায়ে গুলি লাগে। তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আলমগীর জানান, হামলাকারীরা গাড়ি থেকে নেমে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তিনি দাবি করেন, হামলায় জড়িত দুজনকে তিনি চিনতে পেরেছেন এবং তাদের পরিচয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছেন। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন।
আলমগীর আরও জানান, পুরান ঢাকার সোয়ারীঘাট এলাকায় তাঁর পরিবারের মাছের আড়তের ব্যবসা রয়েছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মিরপুর ১১ নম্বর এলাকায় বসবাস করছেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয়ভাবে মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পূর্বের বিরোধের জের থেকে এই হামলা হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। হামলার পেছনের প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।