ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬

ছয় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত

কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ পুলিশের ছয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত পৃথক ছয়টি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ আদেশ কার্যকর করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী জনস্বার্থে তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে বিপ্লব কুমার সরকার ছাড়াও রয়েছেন ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার (ডিসি) মো. ইকবাল হোসাইন, উত্তরা বিভাগের সাবেক ডিসি কাজী আশরাফুল আজীম, কক্সবাজার এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস এবং ডিএমপির সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. গোলাম রুহানী।

এর আগে বিপ্লব কুমার সরকার ও সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। একইভাবে মো. ইকবাল হোসাইন খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে এবং কাজী আশরাফুল আজীম চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন।

অন্যদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস ও সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. গোলাম রুহানী সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন বলে প্রজ্ঞাপন-সংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে বিপ্লব কুমার সরকার ও সুদীপ কুমার চক্রবর্তী দীর্ঘদিন ডিএমপির গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে বিপ্লব কুমার সরকারকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। সরকারি প্রজ্ঞাপনেও তাঁর ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।

পুলিশের এসব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নেওয়া চূড়ান্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপকে সরকারি চাকরিতে শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, সরকারি বিধি লঙ্ঘন এবং শৃঙ্খলাজনিত অভিযোগের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চাকরি থেকে বরখাস্তের ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরকারি চাকরির দায়িত্ব ও সুযোগ-সুবিধা থেকে চূড়ান্তভাবে বিচ্ছিন্ন হলেন। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে চলমান অন্য কোনো প্রশাসনিক বা আইনগত প্রক্রিয়া থাকলে তা নিজ নিজ বিধি অনুযায়ী চলবে।

ads
ads
ads

Our Facebook Page