ঢাকা, শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬

ইরানের ওপর নৌ অবরোধ অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি অবস্থানে হরমুজ প্রণালি নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ না উঠলে হরমুজ পুরোপুরি খুলবে না বলে সাফ জানিয়েছে তেহরান। শর্ত না মানলে যুদ্ধ আরও বাড়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক শক্তির সমীকরণ বদলে যেতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।অন্যদিকে প্রয়োজন হলে ইরানের বন্দরগুলোতে অনির্দিষ্টকাল নৌ অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন। এমন পরিস্থিতিতে প্রণালিতে আবুধাবির দুটি জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে।


বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে মুখোমুখি অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। একদিকে হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তেহরানের কঠোর হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। পাল্টাপাল্টি এই অবস্থানে বাড়ছে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি বিশ্ব জ্বালানি ও বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ।


ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের বলেছেন, তেহরানের শর্ত না মানা হলে যুদ্ধ আরও বাড়তে পারে, যা বিশ্ব শক্তির ভারসাম্য বদলে দেবে। তার দাবি, পারস্য উপসাগরে মিত্রদের নিরাপত্তা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা ব্যর্থ হয়েছে। তাই মার্কিন সামরিক নিশ্চয়তার বাইরে হরমুজকে ঘিরে নতুন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা চায় ইরান।


এদিকে ভুয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হরমুজ প্রণালি নিয়ে বড় ধরনের ভুল হিসাব না করতে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি দাবি করেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভুলের কারণে ওয়াশিংটন আগেও বড় ভুল করেছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ তারই উদাহরণ।এবার হরমুজ নিয়ে আরও বড় ভুলের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল শুরু হবে না বলে সাফ জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী।


অন্যদিকে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ প্রয়োজন হলে অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী নৌবাহিনীর জাহাজ বদল করে দীর্ঘ সময় এই অবরোধ বজায় রাখতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র।


গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যখন সামরিক উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন এর প্রভাব পড়ছে জ্বালানি ও পরিবেশ নিরাপত্তাতেও। ওমানের উপকূলে ক্ষতিগ্রস্ত নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনকারী রুশ জাহাজ থেকে ছড়িয়ে পড়া তেল নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান অ্যামব্রে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ট্যাংকারটি ডুবে গেলে বা ভেঙে গেলে এর পুরো তেল ছড়িয়ে পড়ে নজিরবিহীন পরিবেশ বিপর্যয় তৈরি করতে

ads
ads
ads

Our Facebook Page