ঢাকা, সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ, বাস্তবায়ন দুই ধাপে

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নে নতুন করে সুপারিশ করা হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এটি দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মূল বেতন কার্যকর করা হবে। পরবর্তী ধাপে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে প্রকাশিত সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোসংক্রান্ত প্রতিবেদনে ১ থেকে ১০ম গ্রেডের ক্ষেত্রে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত এবং ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে আরও বেশি হারে বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে।

নবম জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। ২৩ সদস্যের ওই কমিশনের নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান। কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছিল।

পরে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণে সরকারের পক্ষ থেকে একটি বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়। নতুন বেতন কাঠামো কীভাবে এবং কোন সময়সূচিতে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে ওই কমিটি বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেয়।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মূল বেতন ও ভাতা আলাদা ধাপে কার্যকর করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এর আগে তিন ধাপে বাস্তবায়নের একটি পরিকল্পনার কথাও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাবদ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বড় অঙ্কের বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আর্থিক সক্ষমতা এবং সরকারের সামগ্রিক ব্যয়ের বিষয়টিও এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

নবম পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে একই বেতন কাঠামোয় কাজ করার পর নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন বেতন কাঠামোতে শুধু মূল বেতন নয়, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, টিফিনসহ বিভিন্ন ভাতার কাঠামোতেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। কমিশনের প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা চালুর মতো কিছু নতুন সুবিধার প্রস্তাবও করা হয়েছিল।

সব মিলিয়ে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে চূড়ান্ত গেজেট ও সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির পরই কোন গ্রেডে কত বেতন এবং কোন ভাতা কী হারে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে।

ads
ads
ads

Our Facebook Page