পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর আন্দামান সাগর এলাকায় সৃষ্টি হওয়া সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে পশ্চিমমধ্য ও পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। তবে মঙ্গলবার রাত ১টা পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য কোনো সতর্কবার্তা নেই।
এদিকে লঘুচাপের প্রভাবে সারাদেশে বৃষ্টির প্রবণতা কমে যাওয়ায় হঠাৎ করে তাপমাত্রা বেড়ে তীব্র ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। সোমবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ঢাকায় ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বেশ কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে তাপপ্রবাহ কিছুটা প্রশমিত হতে পারে এবং ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে উপকূলসহ সারাদেশে বৃষ্টি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, সাগরে কোনো সিস্টেম তৈরি হলে সাধারণত প্রথম ২-৩ দিন বৃষ্টি কমে তাপমাত্রা বাড়ে এবং পরে গভীর হলে বৃষ্টি বাড়ে। বর্তমান সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিম্নচাপে এবং পরবর্তীতে গভীর নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে কি না, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গাণিতিক মডেল অনুযায়ী এর সরাসরি বড় প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার শঙ্কা কম থাকলেও ভারতের ওড়িশা-অন্ধ্র উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে সিস্টেমটি।
বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিমও (বিডব্লিউওটি) একই ধরনের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত সতর্কতা অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।