ঢাকা, শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬

রামপালে রেকর্ড ১৩২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন

বাগেরহাটের রামপাল মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড হয়েছে। কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।


শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে ৬৫৬ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ৬৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের তথ্য পাওয়া যায়। কেন্দ্রটির প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম এ তথ্য জানিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই ইউনিট মিলিয়ে ওই সময়ে মোট উৎপাদন দাঁড়ায় ১ হাজার ৩২১ মেগাওয়াট।


সম্প্রতি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটে উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। ত্রুটি মেরামতের পর ইউনিটটি আবার উৎপাদনে ফেরে। এরপর দুই ইউনিট থেকেই ধারাবাহিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।


রামপাল কেন্দ্রটির অনুমোদিত উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিটের প্রতিটির সক্ষমতা ৬৬০ মেগাওয়াট করে। ফলে শনিবারের ১ হাজার ৩২১ মেগাওয়াট উৎপাদন কেন্দ্রটির নামমাত্র মোট সক্ষমতার চেয়ে ১ মেগাওয়াট বেশি—এটিকে উৎপাদনের নতুন সর্বোচ্চ রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।


মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রকল্পটি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল)। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি)-এর ৫০:৫০ যৌথ উদ্যোগ।


রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১০ সালে। ওই বছরের আগস্টে বিপিডিবি ও এনটিপিসির মধ্যে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়নের বিষয়ে সমঝোতা হয়। পরে ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যৌথ উদ্যোগ চুক্তি সই হয় এবং এর ভিত্তিতেই বিআইএফপিসিএল গঠিত হয়।


দীর্ঘ নির্মাণপ্রক্রিয়ার পর কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট ২০২২ সালের ডিসেম্বরে উৎপাদনে আসে। পরের বছর দ্বিতীয় ইউনিটের পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়। দুটি ইউনিটের সম্মিলিত সক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট এবং উৎপাদিত বিদ্যুতের পুরোটা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছে সরবরাহের জন্য প্রকল্পটি পরিকল্পিত।


শনিবারের রেকর্ড উৎপাদনকে কেন্দ্রটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক যান্ত্রিক ত্রুটির পর দুই ইউনিটই একসঙ্গে পূর্ণ সক্ষমতার কাছাকাছি উৎপাদনে ফেরায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে কেন্দ্রটির ভূমিকা আরও বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ads
ads
ads

Our Facebook Page

↑