ঢাকা, বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

প্রিজনভ্যানের গেট খুলে পিচ্চি রাজাকে নামিয়ে বোনের গাড়িতে তুলে দিয়েছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা

ঢাকার বংশালে প্রিজনভ্যান থেকে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ‘পিচ্চি রাজা’কে নামিয়ে তার বোনের প্রাইভেটকারে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রিজনভ্যানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক এসআই ও তার দলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)।ঘটনাটি ঘটে গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা ৫৮ মিনিটের দিকে। নিম্ন আদালত এলাকা থেকে ২৯ জন আসামিকে নিয়ে একটি প্রিজনভ্যান গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারের উদ্দেশে যাচ্ছিল। বংশালের প্রধান সড়কে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে যানজটে পড়লে প্রিজনভ্যানটি কিছু সময়ের জন্য আটকে যায়।


তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সময় প্রিজনভ্যানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসআই প্রবীর কুমার নিজ হাতে গাড়ির দরজা খুলে দেন। এরপর মুখে মাস্ক পরা অবস্থায় তিনি ‘পিচ্চি রাজা’কে ভ্যান থেকে নামিয়ে আনেন। একই সময় ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিক খায়রুল বাসারও ভ্যান থেকে নামেন।


প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রিজনভ্যান থেকে নামার পর ‘পিচ্চি রাজা’ সামনে হাঁটতে থাকেন এবং তার পেছনে ছিলেন এসআই প্রবীর কুমার। এ সময় খায়রুল বাসার তাদের সঙ্গে না গিয়ে একটি প্রাইভেটকারের চালকের পাশের আসনে গিয়ে বসেন। আসামিদের সঙ্গে গাদাগাদি করে না গিয়ে তাকে ওই আসনে বসার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


পরে ‘পিচ্চি রাজা’ ও এসআই প্রবীর কুমার প্রায় দুই মিনিট বংশাল মোড়ের দিকে হাঁটেন। সেখানে আগে থেকেই একটি প্রাইভেটকার নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা। অভিযোগ রয়েছে, এসআই প্রবীর নিজে গিয়ে পিচ্চি রাজাকে ওই গাড়িতে তুলে দেন।


ঘটনার বিষয়ে জিএমপি কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার বলেন, কী কারণে এ ধরনের একজন আসামিকে প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে দেওয়া হলো, তা খতিয়ে দেখতে গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।


তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এ ঘটনায় এসআই প্রবীর কুমার ও তার দলের বিরুদ্ধে আরও দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশ্য সড়কে প্রিজনভ্যানের দরজা খুলে রাখায় ভেতরে থাকা অন্য আসামিরাও সুযোগ নিয়ে পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যেতে পারতেন। একই সঙ্গে আরেক আসামি খায়রুল বাসারকে হাতকড়া ছাড়া কিছু সময়ের জন্য একা ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।


তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের মতে, খায়রুল বাসারও ওই সময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে আটকানোর মতো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। পুরো ঘটনায় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ads
ads
ads

Our Facebook Page

↑