চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) প্রাক্তন উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে সৃষ্ট নজিরবিহীন অচলাবস্থা ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে টানা ৩৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মুক্ত হয়েছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি)-এর যৌথ হস্তক্ষেপে উদ্ধার পেয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে অ্যাম্বুলেন্সে করে চুয়েট ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন তিনি।
জানা যায়, আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে চুয়েটের অবরুদ্ধ উপাচার্যকে উদ্ধার ও সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাউজানস্থ চুয়েট ক্যাম্পাসে সশরীরে প্রবেশ করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, “একজন সম্মানিত শিক্ষক ও উপাচার্য আমাদের কাছে জরুরি নিরাপত্তা এবং চিকিৎসার সহযোগিতা চেয়েছিলেন। চিকিৎসার স্বার্থে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা এসেছি এবং দ্রুতই তাঁকে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।”
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে দীর্ঘ ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, মুখোশ ও চোখ বাঁধা মিছিলসহ সর্বাত্মক আন্দোলনে নামেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ওই আন্দোলনের মধ্যে সরকার অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিলেও আন্দোলন চালিয়ে যান তারা। গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্য বহিরাগত ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে অসদুপায়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছিলেন। এর প্রতিবাদে আন্দোলনকারীরা ভিসিকে পদত্যাগের আলটিমেটাম প্রদান করেন এবং তিনি পদত্যাগ না করায় সোমবার সকাল থেকে তাকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
অন্যদিকে উপাচার্যের বলপ্রয়োগ করে প্রবেশের প্রতিবাদে চুয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচির ঘোষণা দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে অবরুদ্ধ থেকে উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম শারীরিক অসুস্থতা বোধ করলে শেষ পর্যন্ত জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় অ্যাম্বুলেন্সে করে উদ্ধার হয়ে তিনি ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।