ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ডে অনিয়মের অভিযোগ হাসনাত আবদুল্লাহ’র

ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের জন্য ৩৪২ কোটি টাকার প্রযুক্তিপণ্য কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।


শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ অভিযোগ তোলেন। প্রকল্পের আওতায় বিপুল অঙ্কের ডিভাইস বা প্যাড কেনার কাজ পাইয়ে দিতে প্রভাব খাটানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় একটি প্রতিষ্ঠানকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে প্রভাবশালী মহল কাজটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় বলেও দাবি করেন তিনি।


শুক্রবার সকালে প্রকাশিত ফেসবুক স্ট্যাটাসে হাসনাত আবদুল্লাহ উল্লেখ করেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাতিজার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতেই সরাসরি কেনাকাটার আয়োজন করা হয়েছিল। নৌবাহিনীর শিপইয়ার্ডকে শুধু মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে কাজ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।


দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি লেখেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না, নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যে বাজারে স্বস্তি নেই এবং নতুন বিনিয়োগ পুরোপুরি থমকে আছে। এমন পরিস্থিতিতে একের পর এক ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। কখনো মন্ত্রীর ছেলে, কখনো স্ত্রী, আবার কখনো ভাইয়ের নাম দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়া রাষ্ট্র সংস্কারের কোনো বার্তা দেয় কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।


প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক দিকনির্দেশনার প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির এই নেতা মন্তব্য করেন, সরকারপ্রধান যখন জনগণকে মাত্র ১৫০ টাকার সাধারণ দুপুরের খাবারের উদাহরণ দিয়ে মিতব্যয়ী ও সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন, তখনই প্রভাবশালী মন্ত্রীদের পরিবারকে ঘিরে হাজার কোটি টাকার সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ ও লুটপাটের তথ্য সামনে আসছে।


একদিকে সাধারণ মানুষকে কৃচ্ছ্রসাধনের উপদেশ দেওয়া, অন্যদিকে ক্ষমতার ছত্রচ্ছায়ায় রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ও অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়ার ঘটনায় তিনি ধিক্কার জানান।


গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও সুশাসনের যে প্রতিশ্রুতি দেশের মানুষকে দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার বিপরীত প্রতিফলন কি না, তা নিয়ে দেশবাসীর মনে সংশয় তৈরি হচ্ছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

ads
ads
ads

Our Facebook Page

↑