রাজধানীর মিরপুরে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে দালালি, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মোহাম্মদ খাইরুল ও রফিককে নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদকে ঘিরে প্রতিবাদ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, যথাযথ তথ্য-প্রমাণ ও তাঁদের বক্তব্য যাচাই না করে এমন গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ করা গুরুতর অন্যায়,
প্রতিবাদকারীদের ভাষ্য, কারও বিরুদ্ধে দালালি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা কিংবা কোনো অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। এসব অভিযোগ প্রকাশের আগে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করা সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব। অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কাউকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা কোনোভাবেই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিচয় হতে পারে না।
মোহাম্মদ খাইরুল ও রফিককে ঘিরে প্রকাশিত সংবাদে আবাসিক হোটেল, বিআরটিএ কার্যালয় ও ফুটপাতকেন্দ্রিক দালালি এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলা হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, এসব অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রতিবাদকারীরা।
তাঁদের মতে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত করা যেতে পারে। কিন্তু তদন্তের আগেই একতরফাভাবে অভিযোগ প্রকাশ করে কাউকে জনসমক্ষে হেয় করা হলে তা ব্যক্তির সুনাম ও মর্যাদার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এই স্বাধীনতার সঙ্গে জড়িত দায়িত্বশীলতা, নিরপেক্ষতা ও তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করাও অপরিহার্য।
প্রকাশিত সংবাদে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যথাযথভাবে প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংবাদে কোনো ভুল, অসত্য বা অসমর্থিত তথ্য থাকলে তা সংশোধন করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যসহ প্রতিবাদ প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিবাদকারীরা বলেন, সাংবাদিকতা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, অনিয়ম তুলে ধরা এবং সত্য প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং তাঁর বক্তব্য নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। যথাযথ যাচাই ছাড়া কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ প্রচার করা হলে তা সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও বস্তুনিষ্ঠতার পরিপন্থী হতে পারে।
তাঁরা এ ধরনের একতরফা ও যাচাইবিহীন সংবাদ প্রকাশের নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের কাছে নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করার দাবি জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ, নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই এবং সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণের আহ্বান জানান।
প্রতিবাদকারীদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংবাদমাধ্যম বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে মোহাম্মদ খাইরুল ও রফিকের বক্তব্য গ্রহণ করে তাঁদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হবে, যাতে কোনো ব্যক্তি অসত্য বা অসমর্থিত তথ্যের কারণে অযথা সামাজিক ও পেশাগত ক্ষতির সম্মুখীন না হন।