ঢাকা, বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হলেন আবদুল এল-সায়েদ

ফিলিস্তিনপন্থী ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সাইয়েদ যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন। রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। এল-সাইয়েদ পেয়েছেন মোট ভোটের প্রায় ৫২ শতাংশ। প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ভোটে এগিয়ে থেকে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।


মিশরীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন চিকিৎসক ও প্রগতিশীল রাজনীতিক এল-সাইয়েদের নির্বাচনি প্রচারে ইসলামবিদ্বেষী আক্রমণ চালানো হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বারবার তাকে লক্ষ্য করে বক্তব্য দিয়েছেন। এমনকি তাকে ‘জিহাদি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। মিশিগানে এক নির্বাচনি সমাবেশে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘সিনেটে ঢোকার আগে একমাত্র তাকেই মেটাল ডিটেক্টরের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।’নিজ দলের ভেতর থেকেও বিরোধিতার মুখে পড়েছিলেন এল-সাইয়েদ। গত আগস্টে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে হ্যালি স্টিভেন্সকে প্রায় ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দলীয় মনোনয়ন পান তিনি। পরে স্টিভেন্স দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন দেন। এল-সাইয়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী স্টিভেন্সের পক্ষে প্রায় ৩ কোটি ডলার ব্যয় করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


জয়ের পর এল-সাইয়েদ বলেছেন, ‘আমেরিকার মহত্ত্ব তার দুর্বলতাগুলো উপেক্ষা করার মধ্যে নয়; বরং সেগুলো সংশোধনের সাহসের মধ্যে।’


বিদেশে মার্কিন সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করে তিনি আরও বলেছেন, ‘কর দেওয়া এবং সেই অর্থ অন্য কারও সন্তানদের ওপর বোমা ফেলতে নয়; বরং নিজের ও নিজের সন্তানদের জন্য ব্যয় হচ্ছে— এটি নিশ্চিত করা এত কঠিন হওয়ার কথা নয়।’


এল-সাইয়েদের বাবা-মা মিশর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়েছিলেন। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা মিশিগানের রচেস্টার হিলে। পেশায় চিকিৎসক এল-সাইয়েদ এর আগে ওয়েন কাউন্টির স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মিশিগানে বসবাসরত বাংলাদেশি কবি ও সাংবাদিক ইশতিয়াক রুপু বলেছেন, নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তার ভাষায়, ‘মিশিগানে যুবকেরা বিপ্লব ঘটিয়েছে।’


তিনি মনে করেন, এল-সাইয়েদকে সমর্থনের পাশাপাশি মিশিগানের ভোটাররা ট্রাম্পের প্রতিও অনাস্থা জানিয়েছেন। অনেক রিপাবলিকানও এল-সাইয়েদকে ভোট দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সবাই এল-সাইয়েদকে সমর্থন করেছেন এবং তিনি বাংলাদেশিদের কাছেও সমর্থনের প্রার্থী হয়ে উঠেছিলেন।


ads
ads
ads

Our Facebook Page

↑